আমাদের সকলেরই জানা আছে Marine ecosystem / coastal ecosystem/ সমুদ্র অঞ্চলীয় বাস্তুতন্ত্র, বাস্তুতন্ত্রগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হওয়ায় এই পৃথিবী রক্ষায় তা বেশ বড়সড় একটা ভূমিকা পালন করে।
এই বাস্তুতন্ত্রের আরও একটি বড় ভূমিকা আমাদের অনেকেরই অজানা, আর তা হল 'ব্লু কার্বন' সঞ্চয়ে এর ভূমিকা।
‘ব্লু কার্বন’ নামটা শুনে ভ্রুটা কুঁচকে গেল একটু??!! এটা আবার কী!!??
আসলে এই শব্দটা অনেকের কাছেই অপরিচিত।
নামে ব্লু হলেও নীল রঙ নয় এটির। মূলত সামুদ্রিক অঞ্চল, মানে-
• সমুদ্র উপকুলীয় লবণাক্ত ভূমি
• ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
• সমুদ্র তৃণভূমি আঞ্চল ,
এই তিন অঞ্চল একত্রে মিলে যে কার্বন জমা করে রাখে,তার পরিচয় দিতেই এই ‘ব্লু কার্বন’ নামটি ব্যাবহার করা হয়। অর্থাৎ জলের সাথে সম্পর্ক আছে বলেই ‘ব্লু’ নামটি দেয়া।
ব্লু কার্বন নিয়ে আর একটু বিস্তারিত বলা যাক ... ব্লু কার্বন কোস্টাল কার্বন নামেও পরিচিত। এই তিন সামুদ্রিক অঞ্চল বিপুল পরিমাণে কার্বন সঞ্চয় করে রাখে, তাও মাটির নিচে। মাটির প্রায় ৩০ মিটার নিচ পর্যন্ত সঞ্চিত থাকে এই কার্বন। হাজার হাজার বছর ধরে জমা থাকে মাটির নিচে। ভূগর্ভে সঞ্চিত হবার দরুন বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়ে অনর্থ ঘটানোর সুযোগ পায় না এরা। এর ফলে ওইসব অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল বেশ ভালো রকমের বিশুদ্ধ থাকে।
এখন কথা হচ্ছে এই বস্তু আমাদের কি কাজে আসবে??? আদৌ কাজে আসবে কিনা??
উত্তর হল, এই ব্লু কার্বন বেশ উপকারি আমাদের এই পৃথিবীর জন্য। এখন দেখা যাক কিভাবে??
• প্রথম কথা হচ্ছে, ভূগর্ভে জমা থাকার দরুন এরা সহজে মুক্ত হতে পারে না। আবার, এই তিন সামুদ্রিক অঞ্চলের পরিমাণ স্থলজ ও অন্যান্য জলজ বাস্তুতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি। স্বভাবতই এদের কার্বন জমা রাখার পরিমাণও অনেক বেশি। স্থলজ অঞ্চলের সঞ্চিত কার্বন ভূগর্ভের চেয়ে উপরিভাগে বেশি থাকে। তাই এদের মুক্ত হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা দুটোই বেশি। এখন, আমরা যদি এই সামুদ্রিক অঞ্চলের পরিমাণ বাড়াতে এবং সংরক্ষণ করতে পারি, তাহলে বলা যায় বিশ্বের এক নং সমস্যা ‘গ্লোবাল ওয়ারমিং’ বা ‘গ্রিন হাউস এফেক্ট’ এর করাল গ্রাস থেকে অনেকখানি নিরাপদ থাকবে এই পৃথিবী।
• আরেকটি যে সুবিধা আমরা পাব তা হল, হাজার হাজার বছর মাটির নিচে জমা থাকার দরুন এই কার্বন ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানী তে পরিণত হবে যা ভবিষ্যতে জ্বালানীর চাহিদা পূরণ করবে।
অর্থাৎ ব্লু কার্বন এর সঞ্চয় বৃদ্ধি করলে আখেরে লাভই হবে আমাদের। ঠিক এই লক্ষেই কাজ করার জন্য শুরু হয়েছে ‘blue carbon initiative’ নামক প্রকল্প, যার কাজ হচ্ছে পৃথিবী ব্যাপী ব্লু কার্বন এর এই ধারনা ছড়িয়ে দিতে।
তবে সব কিছুরই একটা কিন্তু থাকে... এখানেও আছে। সমুদ্র অঞ্চলে কার্বনের এই সংগ্রহশালা যেমন বিশাল, এই অঞ্চল ধ্বংস হলে এই বিশাল পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডলে ঘুরে বেড়াবে। আর তার পরিণতি কি হবে সহজেই অনুমেয় frown emoticon
আমরা কেউই চাই না এই অঞ্চল ধ্বংস হোক, বরং এর সংরক্ষণ হোক এটাই আমাদের কাম্য..
Nazia hossain,
Dept of Zoology,University of Dhaka